নভেম্বরে রেকর্ড ৩৭৮৪ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতি ভারতে

ভারতে বাণিজ্য ঘাটতি গত মাসে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি রফতানির চেয়ে অনেক বেশি আমদানি করেছে।

ভারতে বাণিজ্য ঘাটতি গত মাসে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি রফতানির চেয়ে অনেক বেশি আমদানি করেছে। আমদানি পণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ দখল করে ছিল স্বর্ণ। খবর দ্য হিন্দু।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল বার্থওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অক্টোবরে রফতানি পরিস্থিতি ভালো ছিল। তবে নভেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২১১ কোটি ডলারে। রফতানি কমার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামের রফতানি ও দাম কমে যাওয়া।

সুনীল বার্থওয়াল আরো বলেন, ‘বড়দিনকে কেন্দ্র করে অক্টোবরে পণ্যের চাহিদা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ উৎসব সামনে রেখে পণ্য মজুদ বাড়িয়েছে। নভেম্বরে ভারত থেকে বড়দিনের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ মাসে পেট্রোলিয়ামবহির্ভূত রফতানি ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আপনাকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামবহির্ভূত পণ্যের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।’

তবে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের বিষয় হতে পারে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। কারণ নভেম্বরে পণ্য আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৯৯৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ওই মাসে স্বর্ণ আমদানি রেকর্ড ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা অক্টোবরের ৭১৩ কোটি ডলারের দ্বিগুণের বেশি। মোট আমদানিতে স্বর্ণের হিস্যা ২০ শতাংশেরও বেশি।

আইসিআরএ লিমিটেডের চিফ ইকোনমিস্ট ও হেড রিসার্চ আউটরিচ অদিতি নায়ার বলেন, ‘সম্ভবত উৎসব ও বিবাহজনিত চাহিদার কারণে স্বর্ণের আমদানি বেড়েছে। এ চাহিদা আগামী মাসগুলোয় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা নেই, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।’

তিনি আরো জানান, নভেম্বরে বড় বাণিজ্য ঘাটতির কারণে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হবে। এর আগে ২ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হলেও জিডিপিতে ঘাটতির হিস্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। জিডিপির অনুপাতে বাণিজ্য ঘাটতির এ পরিমাণ দুই বছরে সর্বোচ্চ হবে।

গত এপ্রিল-নভেম্বরে ভারতে পণ্য রফতানির পরিমাণ ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ২৮ হাজার ৪৩১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আমদানি ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৭৩ কোটি ডলার।

এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২৪২ কোটি ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭ হাজার ৯৮ কোটি ডলার।

নভেম্বরে পেট্রোলিয়াম রফতানি ৪৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৩১৭ কোটি ডলার এবং গহনা ও রত্ন রফতানি ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ২০৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। রাসায়নিক, আকরিক লোহা, কয়লা ও অন্যান্য পণ্যের রফতানিও কমেছে।

আরও